Wednesday, 27 October 2021

নিরবিশী ঘাস

চারিদিকে সবুজের মেলা এরই মাঝে উঁকি দিচ্ছে সাদা সাদা ফুল। সেই সাদা ফুলগুলো নিয়ে বাচ্চারা ডিম বানাচ্ছে।তবে সেদিন এখন আর নেই।শুধু র‍য়ে গিয়েছে  এই ফুলগুলি................................



ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত
গোথুবী
                                




প্রায়শই রাস্তার পাশে,ছায়াযুক্ত তৃণভূমিতে এর দেখা মেলা  শুধু ঘাস্ফুল হিসেবে পরিচিত হলেও এর আসল নাম নিরিবিশী ঘাস। এর আরো নাম রয়েছে নিরবিশী ,নিরবিশা,গোথুবী, শ্বেত গোথুবী। 

এর ইংরেজী নাম- white water sedge,hitehead spikesedge 
বৈজ্ঞানিক নাম -Kyllinga nemoralis

এদের সাধারণত রাইজোমের মাধ্যমে বংশবিস্তার হয়ে থাকে।কান্ডগুলি  ২২" বা ৫০ সে.মি পর্যন্ত হতে পারে,পাতাগুলো লম্বাটে। ফুলগুলি সাদা অনেকটা ছোট ভুট্টার মতো।

চিকিৎসাঃ    
  •  চায়নাতে ঠান্ডা,ব্রঙ্কাইটিস,ম্যালেরিয়া,আরথাইটিস
  • মালেশিয়াতে ডায়রিয়ার জন্য
  • এছাড়া জয়েন্ট ব্যথার চিকিৎসার জন্য এর ব্যবহার দেখা যায়।

আমাদের ব্লগ সম্পর্কিত কোন মন্তব্য কিংবা আপনার প্রিয় গাছের নাম জানাতে আমাদের লিখে পাঠাতে পারেন।😊



Sunday, 11 October 2020

গাছের যত্নে চা-পাতা

চা খান না,এমন কম লোকই পাওয়া যাবে।।চা শুধু মনকেই চাঙা করে তোলে না সাথে সাথে গাছের যত্নেও এর রয়েছে ভূমিকা।






কিভাবে ব্যবহার করা যাবে- 

বাসায় বানানো চায়ের লিকার কিংবা দোকান থেকে সংগ্রহ করতে পারেন।এরপর এটিকে জৈব সারে পরিণত করতে একটি পাত্রে জমিয়ে রাখতে পারেন ১০ থেকে ১৫দিন। ছাদ বাগানের গাছে অথবা টবে ভালো সার হিসেবে কাজ করবে।গোলাপগাছ,পাতাবাহার গাছের জন্য খুবই উপকারী চায়ের লিকার। চায়ের লিকারের শক্তি বেশি থাকায় ৪ ভাগের তিন ভাগ  বেলে দো-আঁশ এবং এক ভাগ লিকার ব্যবহার করা যেতে পারে।গাছের বৃদ্ধি ভালো না হলে  পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে দেয়া যায়.



সতর্কতাঃ

 চায়ের লিকার গাছে এক থেকে দেড় মাস পর পর দেয়া যায়,কিন্তু পরিমাণ যাতে বেশি না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সরাসরি লিকার অথবা অব্যবহৃত লিকার ব্যবহার করা উচিত নয়।দুধ-চিনি মেশানো লিকার গাছের পিপড়ার উপদ্রব বাড়াতে পারে।

Saturday, 1 August 2020

ঢেঁড়সের গুনাগুন

ঢেঁড়স বা "Lady's fingers" -পুষ্টি গুনে অনন্য এক সবজি,এতে আছে-

ভিটামিন বি
ভিটামিন সি
ফলিক এসিড 
পটাসিয়াম



ঢেঁড়স ছাদের বাগানে রোপণের পদ্ধতি জানতে ক্লিক করুন

ঢেঁড়সে ফাঈবার থাকার কারণে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং হজমে সাহায্য করে।এছাড়া গ্যাসের সমস্যা কমায়।

ফাইবারের পরিমাণ বেশী থাকায় থাকায় অনেকেই ডায়েটের জন্য উপাদেয় খাদ্য হিসেবে খেয়ে থাকে।

এতে থাকা এ্যাণ্টি অক্সিডেন্ট  বিষণ্ণতা, দুর্বলতা এবং অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে।

এতে কোলেস্ট্রেরলের মাত্রা কম থাকায় হার্টকে সুস্থ রাখে এবং ডায়বেটিস রোগীদের জন্যও ভালো এর পাশাপাশি খারাপ কোলেস্ট্রেলের মাত্রাও কমাতে সাহায্য করে।

এতে থাকা vitamin B9 গর্ভাবস্থায় ভ্রূণ তৈরির জন্য ভালো ঢেঁড়স গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের মস্তিষ্ক তৈরিতে সাহায্য করে, মিসক্যারেজ হওয়া প্রতিরোধ করে।

 ঢেঁড়সে রয়েছে  ক্যালসিয়াম, লোহা যা কিনা হাড়কে মজবুত রাখে। দাঁত ও মাড়ির রোগেও ঢেঁড়স উপকারী।এমনকি মহিলাদের অস্ট্রিপোরেসিস -এর ঝুঁকি কমায়।

ঢেঁড়সে থাকা ভিটামিন,ক্যারোটিন চোখের জন্য ও ভালো-চোখের ছানি দূর করে।

ত্বকের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে ঢেঁড়স  ত্বকের রক্ত চলাচল বৃ্দ্ধি করে ও বিষাক্ত পদার্থ দূর করে শরীরের টিস্যু পুনর্গঠনে ও ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে।

ঢেঁড়সে থাকা ভিটামিন সি, অ্যান্টি ইনফ্লামেটোরি এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান শ্বাস কষ্ট প্রতিরোধ করে এছাড়া অ্যাজমার লক্ষণ বৃদ্ধি প্রতিরোধে এবং অ্যাজমার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ঢেঁড়স বেশ উপকারী।

লোহিত কণিকার পরিমাণ বাড়িয়ে আ্যনেমিয়ার সমস্যাকে কমায়।মহিলাদের জন্য যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে।

ব্লাড সুগার কমাতে সাহায্য করে এটি । এতে থাকা থায়ামিন ডায়াবেটিক রোগীর স্নায়ুতন্ত্রে পুষ্টি সরবরাহ করে সতেজ রাখে। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের প্রতিদিন খাবারপাতে রাখা উচিত ঢেঁড়স।


Friday, 31 July 2020

ছাদ বাগানে ঢেড়শ(Okra)

ঢেঁড়স  আমরা ভর্তা-ভাজি হিসেবে অনেকেই খেয়ে থাকি।ছাদে কিংবা বাড়ীর খোলা জায়গায় অনায়েসেই এটি লাগানো যায়।আমাদের দেশে অনেক ধরণের ঢেঁড়স রয়েছে। তাঁর মধ্যে কিছু  উন্নত জাতের। যেমন  কাবুলী ডোয়ার্ফ,  লক্ষৌ ডোয়ার্ফ,  লং গ্রীন,  লং হোয়াইড়,পুশা শাওনী এদের বীজ বাজার থেকে সংগ্রহ করে লাগাতে পা্রেন।
ঢেড়সের উপকারিতা জানতে


কিভাবে রোপণ করবেন

প্রথমে বীজ সংগ্রহ করতে হবে।বীজ ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখার পর পানি ফেলে দিয়ে টিস্যুতে মুড়িয়ে রাখার পর বীজের মুখ ফেঁটে সাদা দেখাবে। সেগুলো মাটিতে বপন করলে পরের দিন চারা বের হয়।বীজ বপনের দুই একদিনের দিনের মধ্যে চারা গজায় । চারা তৈরি করার জন্য  পলিব্যাগ, বাজারের ব্যাগ, গামলা, দুধের প্যাকেট ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে।গজানোর ১০ থেকে ১৫ দিন পর চারা মূল টবে স্থানান্তর করতে হবে । টব হিসেবে পাঁচ লিটার তেলের বোতল, ফলের ঝুড়ি, বালতি, মাটির টব ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে । একটি ফলের ঝুড়িতে গাছ ভাল জন্মায়।
 এক-দেড় মাস পর থেকেই ফুল আসা শুরু করবে। ফুল থেকে ঢেঁড়স ধরার দু-একদিন পরেই সেটি বড় হয়ে যায়। প্রতিদিনই প্রায় ঢেঁড়স সংগ্রহ করা যায়।কাচা থাকতেই সংগ্র করতে হবে,পেকে গেলে এর স্বাদ ভালো হয় না।
মাটির জন্য দোআশঁ ও বেলে মাটি ভালো। এর সাথে সরিষার খৈল অথবা গোবর দেয়া যেতে পারে।


গাছের যত্ন

পানি দেয়ার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যাতে পানি না জমে।আগাছা জন্মালে উঠিয়ে ফেলতে হবে।
ঢেঁড়স গাছে সাদামাছি  আক্রমণ হতে পারে। যার কারণে মোজাইক ভাইরাস হয়। প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করে পোকা দমন করতে হবে।

অল্প পোকা হলে পানি দিয়ে ধুয়ে দমন করাই উত্তম। বেশি আক্রমণ হলে, পোকা দমনের জন্য এডমায়ার বা ইমিটাফ বা রিপকর্ড বা একতারা ব্যবহার করতে পারেন।
প্রতি লিটার পানিতে এক মিলি হারে মিশাতে হবে। খাওয়ার উপযোগি ঢেঁড়স তোলার পর স্প্রে করতে হবে। স্প্রে করার ৩ থেকে ৫ দিন ফসল তুলা যাবে না। শুয়ো পোকার আক্রমণ থেকে সাবধানে থাক তে হবে।যেকোনো ভাইরাস বা ছত্রাক অংশ আক্রান্ত হলে তা পুড়িয়ে ফেলাই উত্তম।

জবার গুনাগুণ

চুল-এর  যত্ন থেকে রোগ সারানোর কাজ সব কিছুতেই জবার গুনাগুণ বলে শেষ করা যাবে না। আমরা ছোটবেলা জবা কুসুম তেল মাথা ঠান্ডা রাখে একথা শুনেছি নিচে এমনি কয়েকটি গুনাগুণ তুলে ধরা হলো-

জবা গাছ রোপণের পদ্ধতি এখানে






ব্রণ থেকে মুক্তির উপায় : 

ব্রণ-এর সমস্যার জন্য প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন জবা ফুল অনেক উপকারী। কেননা প্রাকৃতিক অ্যান্টি ইনফ্ল্যামাটরি উপাদান এবং ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ এই জবা ফুল ব্রণের সমস্যা প্রাকৃতিকভাবেই নির্মূল করে থাকে।


হজমে সহায়তা : 

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিয়ম করে এই জবা ফুল খেলে শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে এবং হজমক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে। জবা ফুল হজমেও সহায়তা করে।

চুলের যত্ন : 

প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন এই জবা ফুল চুলে বিভিন্ন পুষ্টি প্রদান করে চুল পড়া বন্ধ করে এবং চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা করে উজ্জ্বল আর ঝলমলে করে তোলে। নারিকেল তেলের সঙ্গে জবা ফুল মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করলে চুল কালো হয় , চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা পায়,চুল পড়াও বন্ধ হয়। প্রাকৃতিকভাবেই এই ফুলটি রোদের তাপে চুল ধূসর হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচায়।প্রাকৃতিক শ্যাম্পু,কন্ডিশনা্র হিসেবেও কাজ করে। ভালো  ফলাফল পেতে এর সাথে মেথি গুড়া,দই,মধু ব্যব হার করা যেতে পারে

অনিয়মিত মাসিক: 

অনিয়মিত মাসিক অর্থাৎ দুই এক দিন একটু একটু হয়, আবার সময় হয়ে গিয়েছে আদৌ হয়না আবার হয়তো এক মাস বন্ধ হয়ে থাকলো, এ ক্ষেত্রে দু তিনটি পঞ্চমুখী জবা ফুলের কুঁড়ি ও আধা গ্রাম দারুচিনি এক সঙ্গে বেটে সরবত করে ঋতুকালীন সময়ে দিনে একবার করে ৩/৪ দিন খেলে মাসিক স্বাভাবিক হবে।

বমি করতে চাইলে : 

অনেক সময় উল্টো-পালটা খেয়ে ফেললে যদি বমি করার প্রয়োজন হয় এক্ষেত্রে ৪/৫টি জবা ফুল নিয়ে বোঁটার সঙ্গে যে সবুজ ক্যালিকাস অংশ থাকে, এই অংশ টাকে বাদ দিয়ে ফুল অংশটাকে পানি ও চিনি পরিমাণমত দিয়ে চটকে সরবত করে দিনে ২/১ বার খেলে বমি হয়ে যাবে।

টাক সমস্যা : 
চুল স্বাভাবিক আছে অথচ ফাঙ্গাসে কিছু জায়গা চুল উঠে টাক হয়ে গেছে এ অবস্থায় জবা ফুল বেটে ওখানে লাগালে কিছু দিনের মধ্যে চুল উঠবে। এক/দুইটা ফুল বেটে ৭/৮ দিন  দুই/এক ঘণ্টা রাখতে হবে।


ঠান্ডা লাগলেঃ 

ঋতু পরিবর্তনের সময় ঠান্ডা লেগে জ্বর আসলে, গলা ব্যথ্যা হলে এর উপশম করে কারণ এতে রয়েছে ভিটামিন-সি। 


অ্যান্টি এজিং হিসেবে

কোনো ফুলে যদি বোটক্স প্রপার্টি  থাকে, তা হলে সেটা জবা ফুল। মুখের স্কিনকে টানটান করে ধরে রাখে আর স্কিনের বয়স কমিয়ে দেয়। কয়েকটা জবা ফুল নিয়ে থেঁতো করে নিন। তার পরে মুখে লাগিয়ে রাখুন।  চোখের চারপাশে যেন ওই মিশ্রণ না লাগে। ১৫ মিনিট পরে ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

ফেস প্যাক বানাতে ঃ

ফুলের তৈরি ফেসপ্যাক  ব্যবহার করলে আপনি স্কিনের সমস্যা থেকে দূরে থাকবেন। খুবই সহজে বানানো যায় জবা ফুলের ফেসপ্যাক। বেশি করে জবা ফুল নিয়ে সেগুলোকে শুকনো করে গুঁড়ো করে একটি কৌটোয় ভরে রেখে দিন। স্নান করার আগে বা শুতে যাওয়ার আগে জল, দুধ অথবা ফলের রসের সঙ্গে মিশিয়ে ফেসপ্যাক বানিয়ে মুখে লাগিয়ে নিতে পারেন। এতে স্কিন গ্লো করবে আর বলিরেখাও দূর হবে।ত্বক শুষ্ক হলে নারিকেল তেলের সাথে এবং তৈলাক্ত হলে চালের গুড়ো মেশাতে পারেন।


চোখ ওঠা : 

চোখ ওঠা রোগে জবা ফুল বেটে চোখের ভেতরটা বাদ দিয়ে চোখের উপর ও নিচের পাতায়  লাগালে উপকার পাওয়া যায়। ৭/৮ দিন এক ঘন্টা রেখে দিতে হবে।



নয়নতারার গুণাগুণ

নয়ন তারা যদিও গবাদী পশুর জন্য ক্ষতিকর তবে এর কিছু ঔষুধী গুণাবলি রয়েছে।
তবে নয়নতারা কিছুটা বিষাক্তও হতে পারে।ইতালিতে একে বলা হয় "flower of death".
বর্তমানে লিঊকেমিয়ার ঔষুধ হিসেবে এর গবেষনা চলছে।
কিন্তু এর ঔষুধী গুণাবলি বেশি।নয়ন তারা উপকারিতা জানতে ক্লিক করুন এখানে








  • মৌমাছির হুল,্লাল বা কাঠ পিপড়ের কামড়ে পাতা থেতলে রস লাগালে ব্যথা দ্রুত উপশম হয়।
  • নয়ন তারার ফুল সারা রাত রেখে স কালে  সিদ্ধ করে ছেেঁকে এর পানি ৭/৮ দিন সেবন ক রলে ক্রিমি থেকে মুক্তি মেলে।
  • রক্তে চিনি মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা রয়েছে। ফ লে এটি ডায়বেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
  • বাত ব্যথা,রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে,মেধা বিকাশেও এর ভূমিকা রয়েছে

Thursday, 30 July 2020

বেলী


জবা(China rose)

জবা গাছটির সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত। আমাদের আশেপাশে অনেক ধরনের জবা দেখা যায়-্লাল,হ্লুদ,গোলাপী,সাদা ইত্যাদি।
সাধারণত গরম ও শরৎ-এই ফুলে দেখা মেলে। এর অনেক গুনাগুণ রয়েছে। ঘরের আঙ্গিনায়,ছাদে অথবা বারান্দার শোভা বাড়ায়।
জবার  উপকারিতা জানতে






কিভাবে রোপণ করবোঃ 

জবা তিন ভাবে লাগানো যায়।-বীজের মাধ্যমে,শাখাকলাম, মূলের মাধ্যমে।
জবা গাছ সব ধরনের মাটিতেই জন্মে তবে দো-আশঁ মাটি বা বেলে মাটি এর জন্য ভালো। এর সাথে কিছুটা খৈল,হাড়ের গুড়ো,গোবর মেশানো ভালো। টবের নিচে ড্রেনেজ ব্যবস্থা রেখে মাটি দিয়ে রোপণ করতে হবে।বর্ষাকালের ১৫-১৬দিন পর লিকুইড সার দিতে হবে।একটি কাঠি পুঁতে দিতে হবে পাশে।গাছ লাগানোর পর চাপান সার বা ঝিনুক চুন দিতে পারেন।

গাছের যত্নঃ

পানি দিতে হবে নিয়মিত হবে তবে বেশি বা কম নয়। গোড়ায় পানি না জমে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।মাসে দু'বার মাটি খুচিঁয়ে দিতে হবে।গাছটি বড় হলে ডগাটি ছেটে দিতে হবে। এরপর কয়েকদিন পর কান্ডের পাশ থেকে শাখা বের হবে, তাদের মধ্যে কয়েকটি শাখা রেখে বাকীগুলি ছিড়ে ফেলতে হবে। এরপর গাছের গোড়ায় মাটি দিয়ে দিতে হবে। সতেজ গাছ রাখতে হলে একটি সোজা শাখা ও ৪-৫ টি পার্শ্ব শাখা রাখতে হবে। গাছের পার্শ্ব কুঁড়িগুলি ছাটলে, অনেক ফুল হবে।  বেশী ফুল পেতে হলে গাছের আগা ভেঙ্গে দিন। বর্ষাকালের প্রথমে ও শরৎকালে ডাল ছাঁটতে হবে। ছাঁটাই এর পরে চাউবান্টিয়া পেন্ট ব্যবহার করুন।

জবা ফুলের পোকামাকড়  প্রতিকার:

জবাগাছের ক্ষেত্রে ছত্রাকের আক্রমনের সম্মুখীন হতে হয়। গাছে ছত্রাক/মিলিবাগ আক্রান্ত হলে, ফুলের বোটা নরম হয়ে যায়। এক্ষেত্রে মাসে একবার নিয়মিত কীটনাশক স্প্রে করলে ভাল হয়।  থ্রিপস ভাইরাস জবার কুঁড়ি ঝড়িয়ে দেয়। এতে পাতা কুঁকড়িয়ে যায়। মনোফিল,নিকোটিন সালফেট,রোগার প্রয়োগ করুন।বোর নের অভাবে ফুল আসা কমে যেতে পারে এজন্য বোরিক এসিড ৫লিটার পানিতে মিশিয়ে শেষ বিকেলে মাটি্র জন্য যত টুকু জরুরি তা ঢেলে দিতে পারেন।মাটি পুষ্টি পূরণের জন্য ভাতের মাড় পানির সাথে মিশিয়ে ছেকে মাটিতে দিতে পারেন ।

নয়ন তারা(Madagascar perwinkles)

নয়ন তারা ফুলটির সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত।এর ৫টি পাপড়ি ও গোলাপী রঙের জন্য এ ফুল বেশি পরিচিত।তবে গোলাপী ছাড়াও সাদা রঙ-এর নয়ন তারা দেখা যায়।ফুলটি মূলত মাদাগাস্কার থেকে এসেছে। তবে আবহাওয়ার মিল থাকার বাংলাদেশ,ভারতে এর দেখা মিলে।অনেকেই বাগানের বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা হয় তবে ছাদ অথবা বারান্দার শোভা বাড়াতে এর জুড়ি মেলা ভার।

নয়ন তারার উপকারিতা জানতে ক্লিক করুন

বারান্দায় এভাবেই ঝোলাতে পারেন নয়নতারা






কিভাবে  চারা রোপণ করবেনঃ 

বীজ অথবা কাটিং পদ্ধতিতেও এর চারা বানিয়ে লাগানো যায়। কম্পোস্টযুক্ত মাটি নিতে হবে অথবা বালু বা কোকো পিটযুক্ত মাটি নিতে পারেন। টবের উচ্চতা কমপক্ষে ১০ ইঞ্চি হলে ভালো।উপরে ১ ইঞ্চি খালি রাখতে হবে,টবের নিচে ইটের টুকরো রেখে গাছটি রোপণ করতে হবে।গাছটিকে কিছুটা রোদ এবং কিছুটা ছায়া পাওয়া যায় এমন জায়গার রাখতে হবে।বারান্দা হলে উত্তর অথবা দক্ষিণমূখী হলে ভালো হয়। গাছটিতে গরমকালে বেশী ফুল পাওয়া যায় তাই এই সময়  লাগানো ভালো।

যত্নঃ 

গাছটিকে নিয়মিত পানি দিতে হবে। তবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা যেন থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।টবে নিচে পাথর যুক্ত প্লেট রাখা যেতে পারে যাতে মাটির আদ্রতা ধরে রাখে। বসন্তের ১৪দিন আগে লিকুইড সার ব্যবহার করতে পারেন।গাছের পাতা মাঝেমধ্যে হলুদ হয়ে যেতে পারে,এ জন্য দায়ী অতিরিক্ত পানি বা সার সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।মাঝেমধ্য ডাল কেটে দিতে হবে,নয়তো ডাল শক্ত হয়ে ভালো ফুল নাও ধরতে পারে।


পুদিনার উপকারিতা

পুদিনার গুনের কথা যদি বলা হয় তাহলে শেষ করা যাবে না।পুদিনার প্রকারভেদ জানতে ক্লিক করুন 
পুদিনার গাছ কিভাবে লাগাবেন জানতে ক্লিক করুন

  কয়েকটি এখানে তুলে ধরা হলো-



পেটে ব্যথায়- 
পেটে ব্যথা কমাতে পুদিনার ভূমিকায় রয়েছে।পুদিনা পাতার রস ১ চা চামচ ও আদার রস ১ চা চামচ একসাথে মিশিয়ে তাতে অল্প লবণ দিয়ে এ রস দিনে ২-৩ বার খেলে তীব্র পেটের ব্যথা  সেরে যাবে। এছাড়া অনেকদিনের পেট ব্যথাও পুদিনার রসে সেরে যায়।

মাথা ব্যথা
পুদিনার তীব্র গন্ধ মাথা ব্যথা সারাতে সাহায্য করে।মিন্ট তেলযুক্ত বাম মাথা ব্যথা ও বমিভাব কমায়।


অ্যাস্থেমাতে- 
মিন্ট বা পুদিনা ফুস্ফুস পরিষ্কার রেখে অ্যাস্থামাতে আরাম দেয়।

ত্বকের যত্ন-
ব্রণে দূর করতে সাহায্য করে পুদিনার রস। এজন্য পুদিনার রস ও মধু দিয়ে মুখটি কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলতে হবে কুসুম গরম পানি দিয়ে তাতে ব্রণ কমে যায় ও তৈলাক্তভাব দূর হয়। ক্লিন্সার হিসেবেও পুদিনা ব্যবহার করা যায়।

দাঁত-এর যত্নে
পুদিনা সিদ্ধ করা পানি মুখের গন্ধ দূর করে এছাড়া পুদিনা পাতা চাবালেও মুখের গন্ধ  দূর হয়।পুদিনা পাতা পুড়িয়ে ছাই দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁতের মাড়ি শক্ত হয়।দাঁতের ময়লা দূর ক রে এজন্য অনেক টূথপেস্টেই মিন্ট ব্যহার করা হয়।

ঠান্ডা ও সর্দি কাশিতে পুদিনা-
পুদিনা ঠান্ডায় ভালো কাজ ক রে। এটির গন্ধ নাক,গলা,ফুস্ফুস পরিস্কার করে নাকের ভেতর পুদিনা পাতার রসের ১-২টি ফোটা ফেললে সর্দি সারে।পুদিনাপাতা, টাটকা রস অল্প মধুর সাথে মিশিয়ে, প্রতি ২ ঘণ্টা পরপর ১ চা চামচ করে খাওয়ালে নিউমোনিয়া রোগীর অনেক বিকার দূর হবে এবং জ্বরও তাড়াতাড়ি সেরে যাবে।কাশি হলে পুদিনা পাতা ব্যবহার করতে নিতে পারেন। গরম জলে সামান্য পরিমাণ পুদিনা পাতা সেদ্ধ করে পান করুন। এটি এক্সপেক্টোরেন্টের কাজ করবে।


এছাড়া পুদিনা পাতা ক্লান্তি দূর করতে,ওজন কমাতে,  সাহায্য করে।

পুদিনা রকমফের

আমাদের চারপাশে অনেক ধরনের মিন্ট বা পুদিনা দেখা যায়।এবং তাদের ব্যবহারও আলাদা।পুদিনার গাছ কিভাবে লাগাবেন জানতে ক্লিক করুন

পুদিনার ব্যবহার ও উপকারিতা জানতে ক্লিক করুন এখানে
কয়েকটি পুদিনার নাম এখানে তুলে ধরা হলো-



পেপার মিন্ট
   পেপারমিন্ট-  পেপারমিন্ট থেকে এক ধরনের তেল পাওয়া যায় এ তেলের নাম পিপারমেন্ট অয়েল। এ তেল বেশ     মূল্যবান।এ ধ রনের মিন্ট সাধারণত রান্নার কাজে ব্যবহার করা যায় না।






আপেল মিন্ট
   আপেল মিন্ট- সালাদ এবং শরবতে এ ধরনের মিন্ট ব্যবহার করা হয়।এদের ঘ্রাণ আপেলের মত।





স্পেয়ারমিন্ট

  স্পেয়ারমিন্ট- যদি আপনার জানালায়/বারান্দা/টবে পর্যাপ্ত পরিমাণে বছরে সবসময়ই সূর্যের আলো      পায় তাহলে এ ধরনের মিন্ট লাগাতে পারেন। এ ধ রনের মিন্ট সাধারণত রান্নার কাজে ব্যবহার ক রা      হয়





pineapple mint

     পাইনাপেল মিন্ট- এ ধরনের মিন্ট সবচেয়ে কম ছড়ায়,তাই যদি অন্যকোন গাছের পাশে লাগাতে           চান এটি লাগাতে পারেন।





লেমন মিন্ট

             লেমন মিন্ট- লেমোনেড বা আইসড টি তে এ ধরনের মিন্ট ব্যবহার করা হয়.







চকলেট মিন্ট

                চকলেট মিন্ট- এর ঘ্রাণ চকলেটে মতো হলেও স্বাদে অরেঞ্জ মিন্টের মত।

পুদিনা(Mint)

অনেকেই আমরা পুদিনা নামটির সাথে পরিচিত।সুগন্ধি মসলা জাতীয় উদ্ভিদ এটি।পুদিনার ব্যবহার ও উপকারিতা জানতে ক্লিক করুন এখানে
পুদিনা বারান্দা বা ছাদে মাটির টব খুব সহজেই চাষ করে চাহিদা মেটানো যায়,এছাড়া হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে ঘরের ভিতরেও চাষ করা যায়।অনেক ধরনের পুদিনা রয়েছে চাহিদার উপর নির্ভর করবে কোনটি লাগাবেন।পুদিনার প্রকারভেদ জানতে ক্লিক করুন এখানে
পদ্ধতিঃ

টবে লাগানোর পদ্ধতিঃ

প্রথমে এক টি ১২ ইঞ্চি চওড়া টব নিতে হবে, তবে খেয়াল রাখতে হবে টবটির ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকে।মাটির সাথে কম্পোস্ট মিশাতে পারেন।মাটি যেন পলিমার যুক্ত হয় যাতে পানি ধরে রাখতে পারে।পুদিনার বীজ নিতে পারেন(বীজ থেকে পুদিনা চাষ করা একটু কঠিন হতে পারে) অথবা ছোট পুদিনার চারা গুলো লাগাতে পারেন,কাটিং পদ্ধতিতেও  গাছ লাগাতে পারেন।যদি অনেক চারা লাগাতে চান একটি টবে চারা গুলোর মধ্যে ৬ ইঞ্চি ফাকা থাকা ভালো।টবটি এমন জায়গায় রাখতে হবে যেন সকালের আলো পায় একই সাথে বিকালের ছায়াও পায়,বারান্দা হলে পূর্বমূখী হলে ভালো।প্রথম বছরে গাছটিকে প্রায়ই পানি দিতে হবে যাতে মাটি আর্দ্র থাকে তবে অতিরিক্ত নয়।মাঝমধ্যে ট্রিম করে নিতে পারেন।
ঘরে রাখলে এমন জায়গায় রাখতে হবে যাতে বাতাস পায়,নয়তো পোকামাকড় আক্রমণ করতে পারে।



হাইড্রোপনিক পদ্ধতি

কাটিং পদ্ধতিঃ

একটি পূর্ণাঙ্গ পুদিনা পাতা নিয়ে নিচের থেকে ১/২ইঞ্চি ছুরি দিয়ে কেটে নিতে হবে।এরপর গাছটিকে একটি পানির গ্লাসে রাখতে হবে।১ সপ্তাহ পর তাতে সাদা মূল দেখা যাবে.৫/৬ দিন পর পানি পরিবর্তন করতে হবে,পানিতে কোন পাতা পড়লে তা ফেলে দিতে হবে।

হাইড্রোপনিক পদ্ধতিঃ কাটিং পদ্ধ্তির মতোই এই পদ্ধতি,শুধু এই পদ্্ধতিতে একটি ক ন্টেইনার ব্যব হার ক রতে হবে যাতে কাটিংটি পানির উপরে থাকে এবং পানিটি ৩/৪দিন পর পরিবর্তন  করতে হবে।গ্লাস টিকে সূর্যের আলোতে রাখতে হবে। এভাবে গ্লাসের পানিতেই রান্নাঘরে রাখতে পারেন পুদিনা।





Sunday, 19 July 2020

ফুলের নামটি আলোকনন্দা

ফুলের নামটি আলোকনন্দা,তবে এর আরো নাম রয়েছে অলোকনন্দা,ঘন্টাফুল,হড়কাকড়া,মাইকফুল,হলুদ ঘন্টি ।আমাদের দেশে অনেক ধরনের অলোকনন্দা দেখা যায়,কিন্তু এরা দেশী ফুল নয়।এর ইংরেজি নাম Allamanda yellow, Allamanda ,Yellow trumpet.রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর বাংলা নামকরণ করেছিলেন। বেশীরভাগ ফুল গুলো হলুদ ও সাদা রং -এর হয়ে থাকে। দেখতে ঘণ্টার মত।মেক্সিকো থেকে আর্জেনটিনা পর্যন্ত এর বিস্তৃতি রয়েছে।

ছাদে অথবা বারান্দায় অনেকেই এই ফুল লাগিয়ে থাকে। ফুল গুলো সাধারনত গ্রীষ্মকাল ও বসন্ত-এ ফোটে,তবে বর্ষাাতেও এই ফুল দেখা যায়। একবার ফুটলে অনেকদিন সতেজ থাকে।


বারান্দা হলে ডালটিকে এভাবে আলোতে বাইরে রেখে দিন 


মাটি তৈরীঃ 

একটি  টবে সেচ এর জন্য জায়গা রেখে পিট,কম্পোস্ট ও বালু সমপরিমাণ-এ দিয়ে মাটি তৈরী করতে হবে। একটি মাটির পাত্র/প্লেট নিয়ে তাতে পাথর ও পানি দিয়ে উপরে টবটি রাখলে টব এবং মাটির আর্দ্র্রতা ধরে রাখবে।

যত্নঃ

গাছে পর্যাাপ্ত আলো যেন পায় সে স্থানে রাখতে হবে,এছাড়া একবার পানি দেবার পর উপরের মাটি শুকিয়ে যাবার পরই পানি দিতে হবে।গাছে ছোট মাকড়শা বা সাদা মাছির উপদ্রব দেখা যায়,এজন্য নিম স্প্রে বা হরটিকালচারাল সোপ ব্যবহার করতে পারেন। প্র্রথমে পানি দিয়ে ধুয়ে এরপর ঔষুধ দিতে হবে।
গাছের ঝুলে পড়া ডালের জন্য শক্ত   বাঁশ    এর কঞ্চি ব্যবহার করতে পারেন।

লক্ষণীয়

  • আলকনন্দা ছায়া/ঠান্ডা সহ্য করতে পারে না,এদের গরম আবহাওয়া পছন্দ।
  • লবণাক্ত মাটি এরা সহ্য  করতে পারেনা
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো ও বৃষ্টির পানি দরকার হয়।

Saturday, 18 July 2020

ঘৃতকুমারীর ব্যবহার

ঘৃতকুমারী(Aloe Vera) এর যেমন ঔষুধি গুণাগুন রয়েছে তেমনি রুপ পরিচর্যায় এর জনপ্রিয়তা রয়েছে।তবে এর কিছু অপকারিতাও আছে।অ্যালোভেরা কিভাবে লাগাবেন জানতে ক্লিক করুন
এখানে তুলে ধরা হলো-










হার্ট সুস্থ রাখতে

আপনার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে অ্যালোভেরার জুস। অ্যালোভেরা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এটি ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণ করে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে।

    দাঁতের যত্নে

    অ্যালোভেরার জুস দাঁত এবং মাড়ির ব্যথা উপশম করে থাকে। দাঁতে কোন ইনফেকশন থাকলে তাও দূর করে দেয়। নিয়মিত অ্যালোভেরার জুস খাওয়ার ফলে দাঁত ক্ষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব।অ্যালোভেরায় আছে ভিটামিন-সি, যা মুখের জীবাণু দূর করে মাড়ি ফোলা, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করে। গবেষণাই দেখা গেছে যে, অ্যালোভেরার জেল মাউথ ওয়াশ এর বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।


    রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃ্দ্ধিতে

    রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃ্দ্ধি করে অ্যালোভেরা।এছাড়া ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।আরথাইটিস-এর ব্যথ্যা কমাতেও এর ভুমিকা রয়েছে

      এন্টেস্পটিক হিসেবে ব্যবহার

      কোথায় পুড়ে,কেটে গেলে অ্যালোভেরার জেল আরাম দেয়,এবং পোড়া দাগ কমিয়ে দেয়।

        হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে 

        হজমশক্তি বৃদ্ধিতে অ্যালোভেরা জুসের জুড়ি নেই। এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে। ডায়রিয়ার বিরুদ্ধেও অনেক ভাল কাজ করে।সুষম খাদ্যের পাশাপাশি নিয়মিত অ্যালোভেরার রস পান করেন তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হওয়া সম্ভব।

          ত্বকের যত্নে  

          ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরার ব্যবহার সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। অ্যালোভেরার অ্যান্টি ইনফ্লামেনটরী উপাদান ত্বকের ইনফেকশন দূর করে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়।শুষ্ক ত্বকের জন্য  Moisturizers হিসেবে ব্যবহার হয়।Anti-aging হিসেবে,ত্বক সুন্দর রাখতে এর ভুমিকা  অনেক।ক্লিঞ্জার হিসেবেও একে ব্যবহার করা হয়

            চুল সুন্দর করতে 

            অ্যালোভেরার গুনাগুন বলে শেষ করা যায় না, মাথায় খুশকি দূর করতে এর কোন তুলনা নেই। এমনকি ঝলমল চুলের জন্যেও অ্যালোভেরা অনেক উপকারী। নারিকেল তেলের সাথে এর ব্যবহারে চুলের গোড়া শক্ত ও মজবুত হয়।এবং অল্প কয়েকদিনেই চুল বৃ্দ্ধি পায়।

            তবে অ্যালোভেরা অনেকের জন্য সমস্যার কারণ। যাদের রসুন,পিঁয়াজে অ্যালার্জি তাদের অ্যালোভেরা ব্যবহার করা উচিত নয়।এছারা গর্ভবতী্ ও প্রসূতি মায়ের ব্যবহার না করাই ভালো।কোনো ঔষুধ সেবন করলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে অ্যালোভেরা খেতে হবে।

            ঘৃতকুমারী(Aloevera)

            আমরা অনেকেই ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরার নাম সম্পর্কে জানি, অনেকেই শৌখিনতার পাশাপাশি রূপ পরিচর্যার কাজে ও ঔষুধী গাছ হিসেবে লাগিয়ে থাকেন।
            অ্যালোভেরার ব্যবহার জানতে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

            ঘৃতকুমারী/অ্যালোভেরার রস মাঝেমধ্যেই রাস্তায় বিক্রি করতে দেখা যায় কিন্তু এখন লকডাউনের কারণে অনেকই বাইরে যেতে পারছে না,তাই ঘরে বারান্দা অথবা ছাদেই লাগিয়ে ফেলুন এই গাছ ।

            বারান্দার শোভা বাড়াবে অ্যালোভেরা


            কিভাবে লাগাবোঃ

            অ্যালোভেরার জন্য সব ধরনের মাটি ব্যবহার করা যেতে পারে,তবে সবচেয়ে ভালো হয় দো-আশঁ ও সামান্য বালু মিশ্রিত মাটি ব্যবহার করা হলে। গাছ লাগানোর জন্য পাত্র হিসেবে মাটির টব অথবা প্লাস্টিকের বড় পানির বোতলে মুখ কেটে ব্যবহার  করা যেতে পারে। বোতল হলে কয়েকটি ফুটো করে দিতে হবে।এরপর চারা এনে লাগাতে হবে। চারার হওয়ার পর কয়েকটি চারা গজায়,অন্য জায়গায় প্রতিস্থাপন  করতে পারেন। মূল থেকে গজে ওঠা শাখার সাহায্যে এর বংশবৃদ্ধি হয়।
            পাতার সাহায্যেও লাগাতে পারেন।এজন্য একটি পরিপূর্ণ পাতা নিতে  হবে,খেয়াল রাখতে হবে পাতাটি যেন সুস্থ হয় এরপর একটি ধারালো ছুরির সাহায্যে মাঝখান দিয়ে কাটতে হবে সাবধানে, সংগ্রহ করা পাতাটিতে যেন কোনোরকম খোচা না লাগে। এরপর পাতাটির কাটা উপরের  অংশটি রোদে রেখে দিতে হবে কিছুদিন পর  পাতাটির ভিতরের  জেলটি  শুকিয়ে যাবে। এরপর পাতাটিকে পাত্রে স্থাপন করতে হবে। পাতাটির মাটি আর্দ্র রাখতে হবে, এজন্য পানি দিতে হবে। পানি শুকিয়ে যাবার পরই আবার পানি দিতে হবে,অতিরিক্ত পানিতে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

                লক্ষনীয়ঃ 

            • গাছে যেন অতিরিক্ত পানি না জমে,পানি বের হয়ে যাবার জায়গা রাখতে হবে.
            • বর্ষাকালে পানি তেমন পানির প্রয়োজন হয় না ।
            • অ্যালোভেরা গাছে পর্যাপ্ত আলো প্রয়োজন(৮ -৯ ঘন্টা) তাই বারান্দা হলে দক্ষিনমূখী অথবা পশ্চিমমূখী হলে ভালো হয়
            • ছাদে হলে কোনো গাছের ছায়ার রাখতে হবে যাতে অতিরিক্ত রোদ না লাগে।রোদে গাছের পাতা হলুদ হয়ে যায়।
            • মুষড়ে পড়লে পর্যাপ্ত পানি দিন গাছে। এবং হলুদ হলে ছায়ায় এনে রাখুন ।
            • সার দেবার তেমন প্রয়োজন হয় না,ব্যবহার করলে বছরে একবার বসন্তের সময় করা যেতে পারে।

            Friday, 17 July 2020

            গাছের যত্ন

            একটি সুন্দর ছাদ বাগান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিচর্যার ভূমিকা অনেক,আমরা প্রায় সময় গাছ তো লাগিয়ে ফেলি কিন্তু রক্ষনাবেক্ষণের  অভাবে  ছাদবাগান নষ্ট হয়ে যায়,ফলে সময় এবং অর্থ দুটোই নষ্ট হয়।তাই বাগানের যত্ন নিতে হবে যথাযথ ভাবে।


            কিভাবে নিবেন যত্নঃ
            একেক ধরনের গাছের যত্নের প্রক্রিয়া আলাদা আলাদা ধরনের হয়ে থাকে,তবে কিছু সাধারণ বিষয় রয়েছে,যেমন চারা গাছের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে,এখন যেহেতু জুলাই মাস প্রায়ই সময় বৃষ্টি দেখা মেলে এজন্য বৃষ্টি আসার আগেই গাছটিকে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে,যাতে বৃষ্টির পানিতে গাছ নষ্ট না হয়ে যায়।চারা গাছের পানি দেয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে,অতিরিক্ত পানি জমে গাছের

            ছবি-সংগ্রহিত
            হঠাৎ এমন দমকা হাওয়া আর বৃষ্টিতে যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় আপনার গাছ

            গোড়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে,শুধু মাত্র গাছের গোড়া ঠান্ডা থাকার জন্য যতটুকু পানি প্রয়োজন ততটুকুই ব্যবহার করতে হবে।
            অনেক সময় ছোট টমেটো,পেয়ারা পাখিরা খেয়ে ফেলতে পারে। এজ্ন্য বাজারের কাপড়ের ব্যাগ কিংবা জালি ব্যাগ দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। এছাড়া উঁচু করে তারের জালি কিংবা জাল দিয়ে পুরো ছাদের ওপর ও পাশটা ঢেকে দেয়া যেতে পা্রে।
            রোগ বালাই দমনে  কীটনাশক ব্যবহার না করে  জৈবিক পদ্ধতিতেই রোগ বালাই দমন করা যেতে পারে। একেবারেই সম্ভব না হলে পরামর্শ অনুযায়ি অনুমোদিত মাত্রায় বালাইনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। কিছু দিন পরপরই গাছের রোগাক্রান্ত ও মরা ডালগুলো ছাঁটাই করতে হবে এবং কাটা স্থানে বোর্দপেস্ট লাগাতে হবে। গাছের ধরন অনুসারে নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষ পরিচর্যা করতে হবে যেমন কুল খাওয়ার পর ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি গাছের সব ডাল কেঁটে দিতে হবে। মাঝেম ধ্যে গাছের পাতা হলুদ হয়ে যায় সেগুলো সময় মতো কেটে ফেলতে হবে।
             বছর না হলেও ১ বছর পরপর টবের পুরনো মাটি পরিবর্তন করে নতুন গোবর মিশ্রিত মাটি দিয়ে পুনরায় টবটি-ড্রামটি ভরে দিতে হবে। এ সময় খেয়াল রাখতে হবে গাছ যেন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
            গাছ যেন পোকামাকড় আক্রান্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনেক সময় ছাদে পানির ট্যাঙ্ক  থাকে পোকা মাকড় তাতে প্রবেশ করতে হবে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে ।

            ছাদ বাগানের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূূর্ণ বিষয় হলো এর সেচ ও নিষ্কাসন ব্যবস্থা। তবে যেন পানি বের হয়ে  যাওয়ার ব্যবস্থা থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে নয়়তো অতিরিক্ত আদ্রতায় গাছ নষ্ট হয়ে যেতে পারে, এক্ষেত্রে ঝাঝঁরি দিয়ে পানি দেয়া যেতে পারে।চিকন পাইপ ব্যবহার করা যেতে পারে অনচথ্যায় হাত দিয়ে ছিটিয়ে দিতে হবে।

            Thursday, 16 July 2020

            ছাদ বাগান কিভাবে করবো

            ছোট পরিসরে করতে চাইলে - ছাদ বাগান বর্তমানে জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ এই বাগান করা যেমন সহজ তেমনি হাতের কাছের অনেক জিনিসেই সহজেই ছোট বাগান গড়ে উঠতে পারে। ছোট পরিসরে করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে-ফেলে দেয়া কৌটা,দইয়ের বাটি  অথবা ছোট টব  ইত্যাদি। আপনার বারান্দাতে,জানালার পাশে এসব জিনিস ছোট হওয়ায় খুব সহজেই জায়গা হয়ে যাবে।তাতে ফেলে দিতে পারেন  কাঁচা  মরিচের বীজ অথবা  বোম্বে মরিচের বীজ অথবা   ধনে পাতার নিচের অংশটি ফেলে না দিয়ে পুতে ফেলতে পারেন। খুব সহজেই দেখবেন একটু যত্নেই বেড়ে উঠেছে।এছাড়া অ্যালোভেরা,পাতাবাহার,থানকুনি পাতা,তুলসি,পাথর কুচির মতো গাছ লাগাতে পারেন যা আপনার ঔষুধি চাহিদাও পূরন করবে।লাগাতে পারেন গুল্ম জাতীয় ফুল গাছ- গাঁদা,গোলাপ।
            ফেলে দেয়া কৌটাতে লাগাতে পারেন মরিচের মত ছোট গাছ

                        বারান্দাতেই হতে পারে আপনার  ছোট বাগান
                                                 


            বড় পরিসরে করার জন্য- বড় পরিসরে  করতে চাইলে ব্যবহার করা যেতে পারে ড্রাম,  মাটির টব, স্টিল বা ফ লের প্লাস্টিক ট্রে। অনেক সময়  ভাঙা  বালতি, অব্যবহৃত তেলের বোতলও ছোটখাটো গাছ রোপণের জন্য ব্যবহার করা যায়।  ছাদের সুবিধা মতো স্থানে স্থায়ী বেড (ছাদ ও বেডে মাঝে ফাঁকা রাখতে হবে) স্থাপন করা যেতে পারে। এসব বেডে মূলত সবজি, শাক চাষ করা যায়। চাইলে লাগানো যায় ফুলগাছ। স্থায়ী বেড বানাতে না চাইলে পুরনো বাথটাব অনেক জায়গায় বেড হিসেবে ব্যবহার করা হয়।পুরোনো বাথটাব আপনার আশেপাশের ভাঙ্গারি দোকানেই পেয়ে যাবেন।                   
            গাছের জন্য তৈরি করতে পারেন মাচা
                                   

            যেহেতু ছাদ বাগান স্বল্প পরিসরে গড়ে তোলা হয় কাজেই এর যত্ন-এর দিকে সব সময় নজর রাখতে হবে। সে জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রথমেই সংগ্রহ করে নিতে হবে। এসব যন্ত্রপাতির মধ্যে আছে সিকেচার, কোদাল, কাচি, ঝরনা, বালতি, করাত, খুরপি, স্প্রে মেশিন এসব। চারা রোপণের আগে চারার উচ্চতা, শিকড়ের প্রকৃতি, সহিষ্ণুতা এসব জিনিসের প্রতি নজর রাখতে হবে। সব চারা ও গাছ ছাদ বাগানের জন্য উপযুক্ত না। 

            ফুলের মেলায় ভরে  উঠুক আপনার বাগান
            সাধারণত ফল গাছের জন্য হাফ ড্রাম ব্যবহার করা উচিত। এর তলদেশে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য ১ ইঞ্চি ব্যাসের ৫-৬টি ছিদ্র রাখতে হবে। ছিদ্রগুলোর ওপর মাটির টবের ভাঙা টুকরো বসিয়ে দিতে হবে। ড্রামের তলদেশে ১ ইঞ্চি পরিমাণ ইটের খোয়া বিছিয়ে তার ওপর বালি  দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।  সমপরিমাণ দো-আঁশ মাটি ও পচা গোবরের মিশ্রণ দিয়ে ড্রামটির দুই তৃতীয়াংশ ভরার পর হাফ ড্রাম অনুযায়ী ড্রাম প্রতি মিশ্র সার আনুমানিক ৫০-১০০ গ্রাম প্রয়োগ করে মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে এবং সম্পূর্ণ ড্রামটি মাটি দিযে ভর্তি করে নিতে হবে। ১৫ দিন পর ড্রামের ঠিক মাঝে মাটির বল পরিমাণ গর্ত করে কাক্সিক্ষত গাছটি রোপণ করতে হবে। এ সময় চারা গাছটির অতিরিক্ত শিকড়-মরা শিকড়গুলো কেটে ফেলতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে মাটির বলটি যেন ভেঙে না যায়। রোপিত গাছটিতে খুঁটি দিয়ে বেঁধে দিতে হবে। রোপণের পর গাছের গোড়া ভালোভাবে পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিতে হবে। সময়ে সময়ে প্রয়োজনমতো গাছে পানি সেচ ও উপরি সার প্রয়োগ বালাই দমন ব্যবস্থা নিতে হবে। চাইলে   টব বা ড্রাম এ মাটি দেয়ার আগেই মাটি শোধন করে নেয়া যেতে পারে। গাছের বাড়-বাড়তি অনুযায়ী ২ বারে টব প্রতি ৫০-১০০ গ্রাম মিশ্র সার প্রয়োগ করে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।   
            সার বা মাটি তৈরির ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নেয়াই ভালো 

            কেন দরকার ছাদবাগান

            আমাদের শহুরে জীবনকে একটু খানি সবুজের ছোঁয়া দিতে ছাদ বাগানের ভূমিকার কমতি নেই। চারিদিকে একের পর এক গড়ে উঠেছে ইঠ কাঠের দালান,সেখানে কোথায় করবেন বাগান।আপনার ছোট বারান্দাটি কিংবা ছাদটিতে কিন্তু হয়ে উঠতে  আপনার শখের বাগান।সবুজ ভরা গ্রাম বাংলাকে ধরে রাখতে এখনি অনেকেই চায় তাদের আবাসে ধরে রাখতে। শৌখিন মানুষরা তাদের ঘরবাড়িতে সবুজকে ধরে রাখতে নিজস্ব চেষ্টায় গড়ে তুলছেন ছাদ বাগান।
            সেই বাগান যে শুধু শৌখিনতার অংশ তা কিন্ত নয় বরং সময়ের সাথে সাথে বাগানের চাষ করা সবজি মেটাচ্ছে পুষ্টির চাহিদা।


               ছাদে বাগান কোনো নতুন ধারণা নয়। অতি প্রাচীন সভ্যতায়ও ছাদে বাগানের ইতিহাস চোখে পড়ে। খ্রিস্টের জন্মেরও পূর্বে মেসোপটিয়াম ও পারস্যের জুকুরাক নামীয় পিরামিড আকৃতির উঁচু পাথরের স্থাপনায় বাগান ও ছোট গাছ লাগানোর জন্য স্থান নির্ধারণ করার নিদর্শন পাওয়া যায়।  শতকের পুরনো কায়রো শহরে বহুতল ভবন নির্মাণ হয় যার কোনোটি কোনোটি ছিল চৌদ্দতলা পর্যন্ত বিস্তৃত। এ ভবনগুলোর সবগুলোর ছাদেই বাগান স্থাপন করা হয়েছিল সৌন্দর্যের অংশ হিসেবে যাতে সেচ দেয়ার জন্য প্রাণী শক্তির সাহায্যে চাকা ঘুরিয়ে পুলি দিয়ে নিচ থেকে ওপরে পানি তোলা হতো। ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যানও ধারণা করা হয় বিভিন্ন ছাদ ও বারান্দার সমন্বয়ে তৈরি তবে ঐতিহাসিকভাবে এ উদ্যানের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া না গেলেও তৎকালে বর্তমানে ইরাকের মসুল শহরের কাছেই আরেক ঝুলন্ত উদ্যানের নিদর্শন পাওয়া যায়।   
            বিশ্বব্যাপী নগরায়ন বাড়ছে।বাংলাদেশ ছাড়াও পৃথিবীর অনেক জায়গায় এর চাহিদা বাড়ছে।
            শহরে ছাদ বাগান স্থাপন করা হলে শহরের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি পর্যন্ত কমে আসে। আমাদের শহরগুলোতে মাটির অস্তিত্ব দিন দিন কমে আসছে। ইট-কাঠের ভবনের বদলে দ্রুতই বৃদ্ধি পাচ্ছে ইস্পাতের কাঠামো ও কাঁচে মোড়ানো বহুতল ভবন। বিশেষ করে জানালায় কাঁচ ও বাণিজ্যিক ভবনের টেকসই স্থাপনার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে হালকা কিন্তু শক্তিশালী ধাতব পাত, ফাইবার ও গ্লাস। সূর্য থেকে তাপ ও আলো এ ধাতব ও কাঁচের কাঠামোর একটিতে পড়ে অপরটিতে প্রতিফলিত হয়। বারংবার প্রতিফলনের দরুন সে নির্দিষ্ট এলাকার তাপমাত্রা আশপাশের এলাকার তুলনায় সামান্য বেড়ে যায় এবং শহরজুড়ে তৈরি হয় অসংখ্য হিট আইল্যান্ড বা তাপ দ্বীপ। ভবনে ব বাগান স্থাপন করা হলে বাগানের গাছের পৃষ্ঠদেশ এ তাপ শুষে নেয়  এবং গাছের গাছের দেহ থেকে যে পানি জলীয় বাষ্প আকারে প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় বেরিয়ে যায় তা সে নির্দিষ্ট স্থানের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি কমিয়ে আনে। অসংখ্য ছাদ বাগান বা শহুরের গাছপালা এ প্রক্রিয়ায় শহরের উচ্চ তাপমাত্রাকে কমিয়ে আনে।
            ছাদ বাগানকে কেতাবি ভাষায় যেমন কোনো সংজ্ঞায় নির্ধারিত করা যায়নি তেমনি এর কোনো সুনির্দিষ্ট মডেল এদেশে এখন পর্যন্ত গড়ে উঠেনি। পাকা বাড়ির খালি ছাদে অথবা বেলকনিতে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ফুল, ফল, শাকসবজির বাগান গড়ে তোলাকে ছাদে বাগান বলা হয়। বাড়ির মালিক তাদের আপন আপন উদ্দেশ্যকে মাথায় রেখে আপন ভাবনায় ভঙ্গিমায় সাজিয়ে তুলেন তাদের ছাদকে। এখানে টবে, বড় বড় ড্রাম কিংবা ট্রেতে রোপণ করা হয় নানা ফুল, ফল ও সবজি। সহনশীলতার দিকে লক্ষ্য রেখে নানা কাঠামোর ওপর স্থাপন করেন টব, মাচা। তবে এলোমেলো ও অপরিকল্পিত ছাদ বাগান কেবল সময়, অর্থ অপচয় করায় না। সেই সাথে ভবনেরও নানা ক্ষতি করে। তাই কিছু মৌলিক বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে ছাদ বাগান গড়ে তোলা প্রয়োজন।